প্রায় একমাস
আগে গ্রামের পথে হাঁটছি, সাথে বছর দুয়েকের ছোট এক ছেলে । বেশ কদিন ধরে কবিতা লেখার
সখ হয়েছে তার, ফলে ওর সাথে হাঁটতে খারাপ লাগেনা । হঠাৎ ওর এক পুরনো বন্ধু সাইকেল করে
যাচ্ছিল, দাঁড় করিয়ে গল্প জুড়ে দিল । মিনিট পাঁচেকের গল্পের শেষে বিদায় । পরে জানালো,
এই ছেলেটাই পাশের পাড়ার এক মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল । পালিয়েছিল, মেয়ের বাবা থানায় গিয়েছিল,
কিন্তু শেষে টাকা পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে সব ভুলে গেল । ধর্ষণ আর এমন কি জিনিস? করতেই
পারে । আবার করুক ।
মোশাররফ
করিম ফেঁসে গেলেন একটা চিরাচরিত মুখস্ত করে আসা কথা বলে । তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা
। কিন্তু ভাবার বিষয় ধর্ষণের কারণ আদৌ কী ? বস্ত্র অবশ্যই নয়, তবে ধর্ষণকারীর একার
নোংরা মানসিকতাকেও দায়ী করার পক্ষে নই ।
আমাদের
পুরো সমাজটাই ধর্ষণকারী, প্রত্যেকেই ধর্ষিত । যে ঘটনার কথা উপরে বললাম, ওখানে ধর্ষণটা
কে করলো ? ১৫ বছরের ছেলেটা নাকি মেয়ের নিজের বাবা-মা?
আমি তখন
একাদশ শ্রেনিতে । হঠাৎ একদিন শুনলাম বর্নারানী নামের এক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আত্মহত্যা
করেছে । ষাট বছরের এক বৃদ্ধ ধর্ষণ করেছিল ওকে, বাড়িতে বলেও না পেয়েছিল কাউন্সেলিং না
গিয়েছিলেন আইনের পথে । বর্ণারানী গলায় দড়ি দিয়েছিল, আমরা হাতে প্ল্যা কার্ড নিয়ে কয়েকশো
মিটার হেঁটে ছিলাম, তারপর দিব্যি মাছভাত খেয়ে ভুলে গেলাম । তারপর থেকে এসব লোকদেখানো
মিছিলে আর যাইনা ।
পাকিস্থানে
ধর্ষণের সাজা ধর্ষণ । bd34report.com এর এক প্রতিবেদন, “ধর্ষণের শাস্তিস্বরূপ নির্যাতিতার
পরিবারের সদস্যকে ধর্ষণের সুযোগ দিল ধর্ষকের পরিবার। নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল
গোটা পাকিস্তান।
চলতি মাসের ২০ তারিখ লাহৌরের পঞ্জাব থেকে ২৭৫
কিলোমিটার দূরে, তোবা টেক সিংহ এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনাটি। ধর্ষকের
নাম ওয়াশিম সইদ। ওই এলাকার ১৬ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের
উপর, এমনই প্রকাশ পেয়েছে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের
প্রতিবেদনে।
ওয়াশিমকে হাতেনাতে ধরতে পেরে তাঁকে মেরে ফেলার হুকুম
দেন এলাকার বাসিন্দারা। ঠিক তখনই, ছেলের প্রাণ ভিক্ষা করে
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন ওয়াশিমের পরিবার। শর্ত ছিল, নির্যাতিতার পরিবারের একজন সদস্য ওয়াশিমের পরিবারের কোনও এক মহিলাকে
ধর্ষণের সুযোগ পাবেন। এর বদলে ওয়াশিমের শাস্তি মুকুব করা হবে।চুক্তি অনুযায়ী,
সইদ পরিবারের এক চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাকে ধর্ষণ করেন নির্যাতিতার দাদা।
এমনকী, ঘটনার প্রমাণস্বরূপ একটি চুক্তিপত্রে সাক্ষরও করেন
উভয় পরিবারের প্রায় ১০ থেকে ১২ জন সদস্য।
ঘটনার খবর স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক নায়িম ইউসুফের
কানে পৌঁছলে চুক্তিপত্রে সাক্ষর করা সমস্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেন তিনি। তবে
এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের কোনও চরম শাস্তির হুকুম দেয়নি সে দেশের আদালত।
এই বিষয়ে থানার মুখ্য পুলিশ আধিকারিক আবদুল মাজিদ
জানিয়েছেন যে, ধর্ষণ মামলাকে ধামাচাপা দিতে প্রায়শই এই ধরনের
সমঝোতা হয়ে থাকে দুই পরিবারের মধ্যে। অনেক দশক ধরে এই প্রথা চলে এসেছে পাকিস্তানে।
‘জিরগা’ বা গ্রামের প্রৌঢ়দের নিয়ে
গঠিত সমিতির সদস্যরা প্রায়শই দুই পরিবারের সম্মান বাঁচানোর জন্য এই পন্থা অবলম্বন
করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।“
ওই যে বলছিলাম, পুরো সমাজটাই ধর্ষণকারী ।
এর চেয়ে বড় দৃষ্টান্ত আর কী হবে ?
“ধর্ষণ বন্ধ হোক”
“ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই”
“ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই”
এসকল ধ্বনি এখন কানে চুটকুলির মত শোনায় । ধিক সভ্যতা, ধিক ।
No comments:
Post a Comment